খালি নির্বাচন নির্বাচন করেন, খুনি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলেন না কেন? বিএনপিকে উদ্দেশ জামায়াতে সহকারী সেক্রেটারি

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক খুন ও চাঁদাবাজির ঘটনায় বিএনপির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, শুধু নির্বাচনের দাবি করলেই চলবে না, অন্যায়-অপরাধের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হতে হবে।


নিউ ঢাকা টাইমস : ডেক্স রিপোর্ট

“আপনারা শুধু নির্বাচন নির্বাচন করেন, কিন্তু খুনি-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেন না কেন?”—এমন প্রশ্ন ছুড়ে বিএনপির কঠোর সমালোচনা করলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, “আপনারা নির্বাচন চান, কিন্তু মিটফোর্ডে যেভাবে খুনের ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে তো কোনো অবস্থান নেন না। এমনকি হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি যদি যুবদলের কেউ হয়েও থাকেন, সেটাও বিবেচনায় আনেন না। মানুষের জীবনের কি কোনো মূল্য নেই?”

রফিকুল আরও বলেন, “ব্যবসায়ী সোহাগকে মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। কারণ একটাই—তাকে চাঁদা চাওয়া হয়েছিল, সে দেয়নি। এটাই কি এমন অপরাধ, যাতে প্রাণ দিতে হবে?”

বাংলাদেশের রাজধানীতে গত ১২ জুলাই শনিবার, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

রফিকুল বলেন, “মিটফোর্ডের এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়—এই ধরনের খুন, ধর্ষণ আজ সারা বাংলাদেশেই ঘটছে। অথচ বিএনপি এসব নিয়ে কথা না বলে কেবল নির্বাচনের দাবি জানিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ, শেখ হাসিনার স্বৈরতন্ত্রকে বিদায় জানিয়েছিল। তখন মানুষ বিশ্বাস করেছিল—এখন আর সন্ত্রাসের রাজত্ব থাকবে না, চাঁদা দিতে হবে না, মা-বোনদের ইজ্জতের ভয় থাকবে না।”

তিনি অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগ বিদায় নেওয়ার পর একটি দল এখন বাংলাদেশকে নিজেদের সম্পত্তি মনে করছে। তারাই এখন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস চালাচ্ছে। অথচ যারা অতীতে গণআন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, তারাই এখন নীরব।”

রফিকুল বলেন, “আমরা তো আন্দোলন করেছি একসঙ্গে—বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন কলেজ, বুয়েটসহ সারাদেশে তখন প্রতিবাদের আগুন জ্বলে উঠেছিল আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে।”

তিনি আরও বলেন, “গতরাতেও সেই আগুন জ্বলে উঠেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—যখন শেখ হাসিনা আর ক্ষমতায় নেই, তখন এই চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস চালাচ্ছে কারা? এই বিক্ষোভ তো হওয়ার কথা ছিল না। তাহলে অপরাধীরা কারা?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *