
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত হওয়া সত্ত্বেও পর্যটকদের ব্যক্তিগত শান্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত হকারের চাপ, শিশুদের সামনে দামি খেলনা দেখিয়ে জোর বিক্রি—নৈশ সৈকত এখন ভোগান্তির স্বর্গ।
নিউ ঢাকা টাইমস ট্যাক্স রিপোর্ট
বাংলাদেশের পর্যটনের প্রাণ—কক্সবাজার। প্রতিদিন লাখো মানুষ এই সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে আসেন। দিনের তুলনায় রাতের বীচে পর্যটকদের সংখ্যাই বেশি, কারণ তখন সবাই সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ শুনে নিরিবিলি সময় কাটাতে চান। কিন্তু সেই নীরবতা, আনন্দ আর বিশ্রাম এখন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে হকারদের অতিরিক্ত বিরক্তির কারণে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পর্যটক অভিযোগ করে বলেন—
“আমরা রাতের সৈকতে আসি শান্ত হওয়ার জন্য। কিন্তু প্রতি ১০-১৫ সেকেন্ড পরপরই একজন হকার এসে দাঁড়ায়। বাদাম, চিজ, কফি, আইসক্রিম, মালা—কিনতে হবে এমনভাবে চাপ দেয়। তাদের হাতে থাকা লাইটটা চোখে ফেলায় অস্বস্তি হয়, বিরক্ত লাগে। কথা বলারও সুযোগ পাওয়া যায় না।”
তিনি আরও বলেন—
“এখানে শান্তি খুঁজতে এসে উল্টো অস্থির হয়ে যেতে হয়। এভাবে পর্যটকদের হয়রানি করা হচ্ছে নিয়মিত।”
পর্যটকদের দাবি—শুধু বিরক্ত করাই নয়, এখানে পণ্যের দামও স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি। বিশেষ করে শিশুদের সামনে খেলনা দেখিয়ে জোর করে বিক্রি করা হয়।
একই পর্যটক ক্ষোভ জানিয়ে বলেন—
“যেখানে ৫ টাকার জিনিস, সেখানে ৫০ টাকা বলে। বাচ্চাদের সামনে খেলনা ঘুরিয়ে দেখালে বাচ্চারা কাঁদে। বাধ্য হয়ে বাবা-মাকে কিনতেই হয়। সবকিছুর দামই কমপক্ষে ১০-২০ টাকা বেশি রাখা হয়।”
এছাড়া তিনি প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন—
“কোটি কোটি টাকা আয় হয় এমন জায়গায় পর্যটকদের আরাম কোথায়? আমরা টাকা খরচ করে ভ্রমণে আসি, কিন্তু শান্তি পাই না। প্রশাসন কি শুধু দেখবে? বীচে নিয়ন্ত্রণ রাখতে কি তাদের কোনো দায়িত্ব নেই?”
পর্যটকদের দাবি
রাতের বেলায় হকার নিয়ন্ত্রণ
বীচ চেয়ারে নো-হকার জোন
পণ্যের দাম স্ট্যান্ডার্ড তালিকা
নিয়মানুগ তদারকি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা
ভুক্তভোগী পর্যটকের মতে—
“এই পরিস্থিতি অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি। মিডিয়ায় বিষয়টি তুলে ধরা হোক, সাংবাদিক ও প্রশাসন নজর দিক। আমরা শান্তি চাই — হয়রানি নয়।”