ঢাকায় র‍্যাবের অভিযানে দাউদকান্দির ট্রাকচালক হত্যা মামলার প্রধান আসামি ডালিম গ্রেপ্তার

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ট্রাকচালক আলামিন হত্যার মামলার ১ নম্বর আসামি দীন ইসলাম ডালিমকে ঢাকার বনানীর কাকলী এলাকা থেকে র‍্যাব-১১ সদস্যরা গোপন অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে।

মাসুম বিন ইদ্রিস কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ট্রাকচালক আলামিন হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি মো. দীন ইসলাম ওরফে ডালিম (২৮) শেষ পর্যন্ত আইনের হাতে ধরা পড়েছেন। র‍্যাব-১১ এর সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে ঢাকার বনানী থানাধীন কাকলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

জানা গেছে, দাউদকান্দি মডেল থানার মামলা নং ৯, তারিখ ১০ অক্টোবর ২০২৫, ধারা ১৪৩/৩২৩/৩০৭/৩০২/৩৪/৫০৬ অনুযায়ী দীন ইসলাম ডালিম ছিলেন মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি। তিনি গোয়ালমারী ইউনিয়নের পূর্ব হাউসদি গ্রামের হোসেন প্রধানের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডালিম হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং নিহত আলামিন এ কার্যকলাপের প্রতিবাদ করতেন। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

র‍্যাব-১১ সূত্রে জানা যায়, ৯ অক্টোবর রাত সাড়ে এগারোটার দিকে পূর্ব হাউসদি গ্রামের আল মদিনা মসজিদের সামনে আলামিনের ওপর ডালিম ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা কিলঘুষি ও লাঠিপেটা করে আলামিনকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেজুতি তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরদিন নিহতের স্ত্রী সুমি আক্তার বাদী হয়ে দীন ইসলাম ডালিমকে প্রধান আসামি করে মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‍্যাবের অভিযান শেষে গ্রেপ্তারকৃত ডালিমকে সোমবার সকালে দাউদকান্দি থানায় হস্তান্তর করা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, “র‍্যাবের সহায়তায় মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজই তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, আলামিন সবসময় মাদকবিরোধী অবস্থানে ছিলেন, আর সেই কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মাদকবিরোধী কর্মী এমন পরিণতির শিকার না হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *